তুরস্কের মারমারিসে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের আনন্দভ্রমণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি,

  • প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

চার দিনের বিদেশ সফরে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ়

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর তুরস্কের মারমারিসে চার দিনের আনন্দভ্রমণের আয়োজন করে। সংগঠনের সদস্য, তাঁদের জীবনসঙ্গী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের অংশগ্রহণে ভ্রমণটি আনন্দ, বিনোদন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত মারমারিস পাইনবনঘেরা পাহাড়, নীল সমুদ্র ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এ ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীরা শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন।

সংগঠনের কনভেনর ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান (এমকিউ হাসান) ভ্রমণের নেতৃত্ব দেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মঈন উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হামিদুল হক। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, আবাসন, বিনোদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সমন্বয়ে আয়োজক দল সম্মিলিতভাবে কাজ করে। সংগঠনের উপদেষ্টা নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর ও সোহুল আহমেদ মকু বিভিন্ন সময়ে আয়োজকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।

মারমারিসের সৌন্দর্য উপভোগ

১০ অক্টোবর দলটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের দালামান বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেখান থেকে সড়কপথে মারমারিসের একটি অল-ইনক্লুসিভ হোটেলে পৌঁছান তাঁরা। দীর্ঘ যাত্রার কারণে দুপুরের খাবারের সময় পেরিয়ে গেলেও সাধারণ সম্পাদকের আগাম ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম সন্ধ্যায় সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান সবাই।

ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভূমধ্যসাগরে নৌভ্রমণ। নৌযানে উপকূলের মনোরম দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা খাবার ও চা-কফির আয়োজন উপভোগ করেন। নৌযানটি তিনটি স্থানে থামানো হলে সদস্যরা স্বচ্ছ সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটার সুযোগ পান।

মারুফ চৌধুরী, এম এ কালাম, জাকির হুসাইন, মঈন উদ্দিন, মাটিন চৌধুরী, আব্দুল মাজিদ তাহের, মো. চন্দন মিয়া, এমকিউ হাসান ও সৈয়দ হামিদুল হক সাঁতারে অংশ নেন। তাঁদের জন্য এটি ছিল আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

মোশাররফ হোসেন, মারুফ চৌধুরী, মাটিন চৌধুরী, কামরুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ‘হাম্মাম’ বা তুর্কি স্নানের অভিজ্ঞতা নেন। উপদেষ্টা সোহুল আহমেদ মকু ও নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং কামরুল হাসান সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে বদরুন নাহার, হাসনীন চৌধুরী, বিভা মোশাররফ ও আমানা আখতার সৌন্দর্যচর্চা ও কেনাকাটায় অংশ নেন।

এ ছাড়া সদস্যরা নিজ উদ্যোগে মারমারিস শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বাজার ঘুরে দেখেন। তাঁরা স্বর্ণালংকার, গয়না, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটা করেন। সন্ধ্যায় সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি ও উপকূলীয় পরিবেশ উপভোগের মধ্য দিয়ে দিনগুলো কাটে।

গান, আড্ডা ও বিনোদনে প্রাণবন্ত সময়

দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন ও বিশ্রামের পাশাপাশি ভ্রমণটি সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে। রাতের খাবারের পর অনানুষ্ঠানিক আড্ডা, আলোচনা ও সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

ইসমাইল হোসেন, বিভা মোশাররফ, মারুফ চৌধুরী, এমকিউ হাসান, বদরুন নাহার, ড. হাসনীন চৌধুরী, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর ও এম এ কালাম গান পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে আনন্দ দেন। মাটিন চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মদ অ্যাডাম চৌধুরী, ডা. মুহাম্মেদ কামরুল হাসান ও হান্নান মিয়াজীও এসব আড্ডায় যোগ দেন।

টেবিল টেনিস খেলাও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বদরুন নাহার, মারুফ চৌধুরী, সৈয়দ হামিদুল হক ও এমকিউ হাসানসহ কয়েকজন এতে অংশ নেন। মো. চন্দন মিয়া ও আবুল মাজিদ তাহের নৌভ্রমণসহ অন্যান্য কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন।

ভ্রমণ চলাকালে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য কামরুল হাসান, সৈয়দ হামিদুল হক ও মঈন উদ্দিন অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহেও সহযোগিতা করেন।

অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সাধারণ সম্পাদকের কৃতজ্ঞতা

ভ্রমণ শেষে DUAUK-এর সাধারণ সম্পাদক এমকিউ হাসান অংশগ্রহণকারী সদস্য, তাঁদের জীবনসঙ্গী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভ্রমণ সফলভাবে আয়োজন ও পরিচালনায় নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সহযোগিতার জন্য ওভারসিজ হলিডে টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় মারমারিস ভ্রমণ আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, নৌভ্রমণ, সাঁতার, তুর্কি হাম্মাম, কেনাকাটা, গান ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম অনেক সুন্দর স্মৃতি উপহার দিয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল পারস্পরিক আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ।

ভ্রমণ শেষে সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, প্রশংসা ও উৎসাহমূলক বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বার্তা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আন্তরিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

ভ্রমণ চলাকালে কোনো ত্রুটি বা অসুবিধা হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সবার ধৈর্য, সহযোগিতা, সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এমকিউ হাসান আরও জানান, ভ্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ফলে সফর চলাকালেও তিনি কিছু শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। তা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সদস্যরা যে সহানুভূতি ও সহযোগিতা দেখিয়েছেন, সে জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের প্রত্যাশা

আয়োজকদের মতে, মারমারিসের এ ভ্রমণ DUAUK-এর সদস্যদের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটানো, নতুন স্থান ঘুরে দেখা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এমকিউ হাসান আশা প্রকাশ করেন, এ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিদেশভ্রমণ আয়োজনের ক্ষেত্রে সদস্যদের উৎসাহিত করবে, যাতে আরও বেশি সদস্য এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তিনি সংগঠনের সব সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেন। পাশাপাশি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh