নেতানিয়াহুর সপ্তম মেয়াদ নাকি ক্ষমতার পালাবদল? ভাগ্যপরীক্ষা আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

গাজায় চলমান যুদ্ধ, লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি এবং নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেও ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করছেন না সাধারণ ফিলিস্তিনিরা।

ইসরায়েলের প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার আজ নেসেটের ১২০টি আসনের জন্য ভোট দিচ্ছেন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেন এবং নেসেটে জায়গা পেতে একটি দলকে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর দল ‘লিকুদ’ এবং কট্টর ডানপন্থী ও উগ্র ধর্মীয় দলগুলোর (জিউইশ পাওয়ার, রিলিজিয়াস জায়োনিজম, শাস প্রভৃতি) সমন্বয়ে গঠিত শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে ‘ইয়াশার’, ‘টুগেদার’, ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ ও ‘ডেমোক্র্যাটস’দের নিয়ে গঠিত বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো শিবিরেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিরোধী নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সমঝোতা না হলে আবারও নির্বাচন হতে পারে, আর তত দিন নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যেতে পারেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই প্রথম নির্বাচন। ফলে নিরাপত্তাব্যর্থতা, সামরিক সেবা থেকে কট্টর ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গাজার এক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, তবে তারপরও তিনি নেতানিয়াহুর পতন চান।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh