শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান বাবুল আখতারের

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ

কাজে ফিরতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, শ্রমিক ভাইদেরকে অনুরোধ করছি, আপনারা কাজে ফিরে যান এবং আপনারা আপনাদের নিয়মিত কাজে যোগ দেন। অন্য কারও উস্কানিতে, অন্য কারও ধরনের প্ররোচনায় পা দিয়ে আপনাদের শিল্পকারখানা ধ্বংস আপনারা করবেন না।

‘এখানে আপনারা কাজ করেন, এই শিল্পটা আপনাদের জন্যও দরকার, সরকারের জন্য দরকার, মালিকের জন্য দরকার। এবং যেহেতু এই ফেডারেশনগুলো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘট ডাকিনি বা বলিনি, তার পরও যে সমস্ত শ্রমিকরা যদি কেউ অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কিন্তু বিপদে পড়লে শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে আপনারা পাশে পাবেন না।’

পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ডের এ শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, আপনারা কাজে ফিরে যান। এবং আপনাদের যে মজুরির দাবি, আমরা যারা শ্রমিক প্রতিনিধি আছি, তারা একসঙ্গে বসে বোর্ডের মাধ্যমে যা কিছু, সেটা আমরা আদায় করব।

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার গাজীপুর নগরের নাওজোড় এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। সোমবারও ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় পরের মাসে। সেই হিসাবে পোশাক খাতের বর্তমান নিম্নতম মজুরি হারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, আমরা আশা রাখি যে ৩ বছর পর, ডিসেম্বরের… ২৬ শে ডিসেম্বরে আমাদের ৩ বছর মেয়াদ শেষ হবে। আমরা আশা করি আমরা তার ভেতরেই একটা সমাধানে আসব এবং ডিসেম্বরের মজুরি কার্যকর হবে এবং আশা করি শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের সাথে এটা পাবেন। অতএব আপনাদেরকে আবারও অনুরোধ জানাই, আপনারা কাজে ফিরে যান। কাজে ফিরে যেয়ে আপনাদের উৎপাদন সচল রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, মাননীয় মন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমদ) মহোদয় যেটা বলেছেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে…তারা কয়েকজন বাদে বাদবাকি সবাই কিন্তু বহিরাগত। যাদেরকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার করেছে, তারা আসলে এই আন্দোলনের সঙ্গে বা কোনো ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে জড়িত ছিল না। যারা জড়িত না, আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কেও বলব যে কয়েকজন শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদেরকেও মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং তাদের যাতে হয়রানি করা না হয়, রিমান্ডে নিয়ে যাতে তাদের টর্চার করা না হয়, এটাও আমরা আজকের আহ্বান জানাচ্ছি।

আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সাভারের আশুলিয়ায় একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাব, উৎপাদনে ফিরে যাব, ঘরে ফিরে যাব। আমাদের কর্মস্থলে ফিরে যাব। যারা এখনো মজুরি বোর্ড গঠনের পরবর্তী সময়েও ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না। তাদের ভিন্ন স্বার্থ থাকতে পারে। সেটা আমরা সেভাবেই দেখব। তবে আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাইকে—আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে আহ্বান জানাবেন যে, আপনাদের মজুরির বিষয়টি মজুরি বোর্ড দেখছে। আজকেই তারা হয়তো প্রথম মিটিং আহ্বান করতে পারতেন, হয়তো খুব শিগগিরই করবেন, আমরাও আহ্বান জানিয়েছি।

‘ওইখানেই আপনাদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন, মালিকদের প্রতিনিধি আছে, তারা কথা বলবেন। আমরা সবাই মিলে শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখব, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখব, আমাদের অর্থনৈতিক চাকা চালু থাকবে এবং আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে যাব।’

এর আগে সকালে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

‘আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই—যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh