যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কোনো পরিবর্তন না হলেও, মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বর্তমান ক্ষমতাসীনদের হাতছাড়া হলে বদলে যেতে পারে মার্কিন রাজনীতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রতি চার বছর অন্তর। আর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ নামে পরিচিত। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং উচ্চকক্ষ ‘সিনেট’-এর ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে (৩৩টি নিয়মিত ও দুটি বিশেষ) ভোট হবে। প্রতিনিধি পরিষদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি নির্বাচনেই এখানে পূর্ণাঙ্গ ভোট হয়। অন্যদিকে, সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হলেও প্রতি দুই বছর পরপর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।

এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো কংগ্রেসের নতুন প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতে থাকে, প্রেসিডেন্টের আইন পাস বা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের খবরদারিও তত বেশি থাকে। এই নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার একটি বড় পরীক্ষাও মনে করা হয়। ইতিহাস বলছে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত কঠিন হয়ে ওঠে। তবে কেবল প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা নয়, অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসননীতি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলোও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব, ১৮ বছর বয়স এবং নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করে আগে থেকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। অঙ্গরাজ্যভেদে এই নিবন্ধনের নিয়ম ভিন্ন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন ভোটাররা তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন—নির্বাচনের দিন সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট, আগাম ভোট (আর্লি ভোটিং) অথবা ডাকযোগে (মেইল-ইন) ভোট। ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে ব্যালট নির্বাচন কার্যালয়ে পৌঁছানোর সময়সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা কোনো একক জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না; বরং এটি অত্যন্ত বিকেন্দ্রীভূত। ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে ব্যালট ছাপানো, ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল চূড়ান্ত করার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের। ফেডারেল আইন কিছু সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণ করলেও নির্বাচনের অনেক পদ্ধতি অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেরাই ঠিক করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের রাতে গণমাধ্যমে যে ফল প্রচার করা হয়, তা চূড়ান্ত নয়। কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়া ভোটের পাশাপাশি ডাকযোগে আসা ভোট, আগাম ভোট এবং শর্তসাপেক্ষ (প্রভিশনাল) ভোট সতর্কতার সঙ্গে গণনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুনর্গণনা বা নিরীক্ষাও করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল চূড়ান্ত বা ‘সার্টিফাই’ করে।

এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেবল কংগ্রেস সদস্যই নির্বাচিত হন না। ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা, স্থানীয় মেয়র, কাউন্টি কমিশনার এবং শেরিফও নির্বাচিত হবেন। এছাড়া অনেক অঙ্গরাজ্যে কর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে সরাসরি গণভোট বা ‘ব্যালট মেজার’-এর মাধ্যমে ভোটারদের মতামত নেওয়া হবে।

সংক্ষেপে, ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচন শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগামী দুই বছরের কাজের গতিপথই নির্ধারণ করবে না, বরং বহু অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের আগামী দিনের নীতিনির্ধারণেও এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh