সব
মারুফ হাসান,
দীর্ঘ নয় বছর পর আজ থেকে পুনরায় সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু হল। এতে করে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিও আলোর মুখ দেখল। আজ রবিবার (৪অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টায় ২৪৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানের ফ্লাইটটি (বিজি ০০১) লন্ডনের উদ্দেশ্যে ওসমানী বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
যাত্রীদের মধ্যে ১৮২ জন ছিলেন সিলেটের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় লন্ডনগামী সিলেটের যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানের সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু উপলক্ষে বিমানবন্দর লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার। তিনি জানান, বাংলাদেশ বিমানের অত্যাধুনিক ড্রিম লাইনার-৭৮৭ বিমানটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২৬০ ধরা হয়েছে।
এর আগে রবিবার সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মো. মাহবুব আলী, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির খান ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মো. মাহবুব আলী বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন বিমান নিয়ে জনসাধারণের অনেক নেতিবাচক ধারণা আছে। জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির অনেক বদনাম আছে। এই বদনাম থেকে বিমানকে রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী বিমানে অনেক শুদ্ধি আনা হয়েছে। ফলে গেল অর্থবছরে বিমান ২শ’ কোটি টাকার উপরে লাভ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ৯০ ভাগ সিলেটী। তাই ওসমানী বিমানবন্দরে যাতে ‘৭৭৭’ উড়োজাহাজ ‘টেইক অফ’ করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে ওসমানী বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন ও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। গত এপ্রিলে রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধির কাজ শেষ হয়েছে। গত ১ অক্টোবর নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে। সবমিলিয়ে ওসমানী বিমানবন্দর হবে অত্যাধুনিক বিমানবন্দর।
মাহবুব আলী বলেন, সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালুর আগে যুক্তরাজ্যের ডিএফটি’র প্রতিনিধি দল দু’দফা ওসমানী বিমানবন্দর পরিদর্শন করে গেছে। আগামীতে সিলেট থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাও হবে। বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও ওসমানীতে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়াও শিগগিরই বিমানের সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান বলেন, বিমানের সুন্দর সুন্দর নামগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া। তিনি বিমানে যাত্রা করলে সীট থেকে উঠে গিয়ে যাত্রীদের খবর নেন। প্রধানমন্ত্রী আকাশ যোগাযোগের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক বলেই বিমানের বহরে নতুন নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সব কিছুর পর বিমানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও অত্যাধুনিক বিমান বহরে যুক্ত করে সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। তবে সরকারের পাশাপাশি এটাকে টিকিটে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, এ যাবত ৫৩টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলের চুক্তি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুও স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশে একদিন ‘এভিয়েশন হাব’ হবে। তার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর কিছুদিন পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা হয়ে এই ফ্লাইট চালু হলেও করোনার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।