কর্মচঞ্চল চা বাগান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২২, ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

চা-শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের পর ধর্মঘট শেষে রোববার বাগানের ছুটির দিনে আংশিক কাজে যোগ দেন। সোমবার থেকে পুরোদমে কাজে যোগ দিয়েছেন চা-শ্রমিকেরা। এতে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে প্রতিটি বাগান।

সিলেট জেলার ২২টি, মৌলভীবাজারের ৯২টি ও হবিগঞ্জের ২৩টি বাগান সোমবার যেন নবরূপ পায়। শ্রমিকের পাশাপাশি মালিকরাও এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বেশ কিছু চা-বাগান ঘুরে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। বাগানগুলোতে টানা ১৬ দিন পাতা না তোলায় চা-পাতাগুলো বেশ বড় ও শক্ত হয়ে গেছে। শ্রমিকরা হাত দিয়ে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির পাশাপাশি সেই শক্ত ও বড় হয়ে যাওয়া চা-পাতাগুলো তুলে কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।

শ্রমিকরা বলেন, ১৬ দিন পরে বাগানে ফিরে খুব ভালো লাগছে। তবে পাতার অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে পাতা গুলো আড়াই কুড়ি হলে তোলা হয়, সেই পাতায় এখন ২০ থেকে ২২ কুড়ি হয়েছে। যে পাতাগুলোর বয়স বেশি হয়েছে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। চা পাতায় আমাদের ভালোবাসা আর আবেগ। বাংলাদেশে চা শিল্প টিকিয়ে রাখাটা আমাদেরই দায়িত্ব। যেহেতু এখন চায়ের ভরা মৌসুম তাই কষ্ট হলেও দ্রুত পাতা উত্তোলনের চেষ্টা করবো।

সিলেটের মালনিছড়ার এক শ্রমিক বলেন, ‘এত দিন চা-বাগানে কাজ না করতে পেরে খারাপই লেগেছিল। কিন্তু আমাদের কিচ্ছু করার ছিল না। ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে আমরা খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। এখন ১৭০ টাকা হয়েছে। খেয়েদেয়ে বাঁচতে পারব।’

৯ আগস্ট থেকে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে দুই ঘণ্টা করে চার দিন কর্মবিরতি এবং ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করেন চা-শ্রমিকরা। পরে গত শনিবার চা-বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করে দেন। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh