চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে চসিক-সিডিএ’র পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৩, ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) আবারও জলাবদ্ধতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে।

বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুরে নগরীতে সিডিএ সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) অযোগ্য বলেই দাবি করেছেন।

এ সময় তিনি মেয়রের দেয়া বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, সিডিএ জলাবদ্ধতার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে, সবাই মনে করেছে সব দায় সিডিএ’র। মূলত সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতার কাজ করতে না পারায় সিডিএকে প্রকল্প দেয়া হয়। সিডিএ শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মেয়র সাহেব ভুল তথ্য দিয়ে সিডিএকে দোষারোপ করছেন।

সিডিএ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের যোগ্য না চসিক মেয়রের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিডিএ’র বক্তব্য জানতে চাইলে দোভাষ বলেন, সিডিএ যোগ্য না হলে সরকার প্রকল্প দিয়েছে কেন? বরং তারা যোগ্য নয় বলে তৎকালীন সময়ে সিডিএকে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে না বা কোনো সংস্থাকে দোষারোপ করছি না। আমরা শুধু কি কাজ তা জানাচ্ছি। স্লুইসগেট বসানোর কারণে চাক্তাই খাতুনগঞ্জে এবার পানি উঠেনি যদিও সেখানে অস্থায়ী গেইট বসানো হয়েছে।

এদিকে, জলাবদ্ধতা প্রকল্প বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পর বিকেলে টাইগারপাসে নিজের দপ্তরে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, একজন আরেকজনকে দোষারোপ করার ওই সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি না। ব্যাপারটা হচ্ছে জলাবদ্ধতা হচ্ছে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সিডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার উনি একজন কর্মচারী। উনি কোনো অবস্থায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধি কাউন্সিলরদের প্রতি আঙুল উঁচু করে কথা বলতে পারে না এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকেও দোষারোপ করতে পারে না। উনি কোন ভিত্তির ওপর কোন জরিপের ওপর ভিত্তি করে বলছে যে নালাগুলো ভরাট তাই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। উনি কি জরিপ চালিয়েছেন। অনুমান করে কাউকে দোষারোপ করাটা কোনো অবস্থায় সমীচীন নয়। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হাতে নেই।

মেয়র আরও বলেন, আমি কাউকে দোষারোপ করবো না। চসিক-সিডিএ দ্বন্দ্ব না। চট্টগ্রাম শহরবাসী যাতে স্বস্তি পায় সে জন্য কথাগুলো বলতে হচ্ছে। কারও প্রতি বিদ্বেষ নেই। খালগুলো দেখে আসেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু নেই। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চসিকের হাতে নেই। এখানে আমি কাজ করতে পারছি না, ওভারলেপিং হয়ে যাবে। যে সংস্থা কাজ করছে মেইনটেইনেন্সের সব কাজ তাদের। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে, সেখানে চসিক কাজ করতে পারে না। বলবে তুমি কেন টাকা খরচ করতে গিয়েছো।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...