সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটিতে বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে মেলা শুরু হয়েছে ।বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু মেলা। এ মেলা বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) শুরু হয়ে প্রথম পর্যায়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের উদ্যেগে আয়োজিত মেলা শেষ হবে ১২ এপ্রিল।
এ উৎসবকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে সপ্তাহ ব্যাপী বিজু মেলা শুরু হয়েছে। এতে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অবঃ) অনুপ কুমার চাকমা। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক হাবিব উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার এসএম ফরহাদ হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও মেলায় কাপড়-চোপড়সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রি ও খাবারের ষ্টল দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জুম ঈসথেটিক কাউন্সিলের (জাক) ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাক নাট্য উৎসব শুরু হয়েছে। এতে উদ্বোধক ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান অভিনয় শিল্পী সুনির্মল চাকমা। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন।আলোচনা সভা শেষে মারমা সম্প্রদায়ের মাছেং নাটক মঞ্চায়িত হয়।
অন্যদিকে, শহরের সাবারাং রেস্টুরেন্ট মাঠে সিএচটি ফাগুন ভ্যাস্টিবেলের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়। উল্লেখ্য, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১৪টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আদিবাসী পাহাড়ি জাতিসত্তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু।
উৎসবটির উচ্চারণগতভাবে বিভিন্ন নামের পালন করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। মূলত পুরনো বছরের সব দুঃখ কষ্ট ও গ্লানিকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছরের নব উদ্যোগের শুভ কামনা করাই হলো এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।