জন্মশহর মাশহাদে আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দেশটির পবিত্রতম ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হয়েছে। তবে তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা ও শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি হলো। চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গত মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধের প্রথম দফায় নিহত হন খামেনি। টানা হামলার ৪০ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত মাসে যুদ্ধ শেষ করতে দেশ দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এখন তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হয়। ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, প্রয়াত খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান–সংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।

ইরান ও ইরাকে এক সপ্তাহ ধরে চলা এসব শোকানুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করতে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক মাসের সামরিক অভিযানের পরও ইরান এখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় চার দশক ধরে দেশ শাসন করা আলী খামেনির উত্তরাধিকার নিয়েও দেশটিতে তীব্র মতভেদ রয়েছে।

এখনো প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা

বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মার্চের শুরুতে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে। তবে এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর কোনো ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠধারণও প্রকাশ করা হয়নি। তবে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

বাবাকে হত্যা করা হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।

তেহরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মোজতবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনো জনসমক্ষে আসার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। পাশাপাশি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখছে।

খামেনির শোকযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় মাশহাদে জড়ো হওয়া অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি তরুণ বয়সে কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh