সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
বাংলাদেশ রেলওয়েতে গত এক বছরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় পরিবহন ব্যবস্থা বেশ উন্নত হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা হয়েছে এবং রেল চলাচলের সময়সূচিতে চরম বিচ্ছৃঙ্খলা কাটিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সব স্টেশনে টিকিট চেকিং ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনলাইনে কালোবাজারি রোধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত দুটি ঈদে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা হয়নি।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে অতিরিক্ত উন্নয়ন ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে বিপুল অর্থ লোপাট হয়েছে। রেলের ইঞ্জিন ও ট্রেন কেনা থেকে করোনাকালে সুরক্ষাসামগ্রী কেনাতেও দুর্নীতি হয় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর রেল চলাচলের শৃঙ্খলা ফেরানো, টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে।’
উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় হ্রাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্প।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যমুনা রেল সেতুর কাজ সম্পন্ন করে ব্রিজে ডাবল লাইন চালু করা হয়েছে, যা ট্রেন গতি বৃদ্ধি ও সময় সাশ্রয়ে সহায়ক হয়েছে।
রেলওয়েকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে অপারেটিং রেশিও কমিয়ে আনা হয়েছে এবং নন কোর আয় বৃদ্ধি লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। রেলওয়ের ব্যয় ও আয়ের অনুপাত ২.৫ থেকে কমিয়ে ২.০৯ করা হয়েছে।
জনগণের সুবিধার জন্য রেলওয়ের কল সেন্টার নম্বর ১৩১ চালু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশেপাশের জেলা শহর থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যেখানে মেট্রোরেলের কোচের ন্যায় আসন ব্যবস্থায় যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক