ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, দাফন সামরিক মর্যাদায়

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:০৩ অপরাহ্ণ

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় শান্তিরক্ষী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যর নামাজে জানাজা রোববার (২১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। পরে সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ নিয়ে একটি ফ্লাইট অবতরণ করে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী ছয়জন শান্তিরক্ষীর মৃতদেহ আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন। এছাড়াও মরদেহ গ্রহণকালে চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি; আবেইতে মোতায়েনরত জাতিসংঘ মিশন ইউনিসফার ফোর্স কমান্ডারের প্রতিনিধি, চিফ কমিউনিটি লিয়াজো অফিসার; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন); পরিচালক, ওভারসিজ অপারেশন পরিদপ্তর, সেনা সদর; ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মরদেহ বুঝে নেওয়ার সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সকল সামরিক ব্যক্তিবর্গ শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, আগামীকাল ২১ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টারযোগে প্রেরণ পূর্বক যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইস-এ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় দায়িত্ব পালনরত ৬ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

নিহত ছয় শান্তিরক্ষী হলেন- নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- কুষ্টিয়ার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোছা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh