সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

অন্তর্ভূক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে কী বোঝায় সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশন।
এ ব্যাপারে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস বলেছেন, বাংলাদেশের সমাজের সবগুলো পক্ষের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টিকেই অন্তর্ভূক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বোঝায়।
রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে করা প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের দৃষ্টিতে প্রথমত অন্তর্ভূক্তি মানে হচ্ছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক সব গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি; নারী, জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মতো পক্ষগুলো যাতে অংশ নিতে পারে।
“আর অংশগ্রহণমূলক হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির দিকে ভালোভাবে নজর রাখব। যার মাধ্যমে আমরা ইঙ্গিত পাব যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করছে।”
ঢাকার রেনেসাঁ হোটেলে ওই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হয়েছে।
২০০৮ সালের পর এবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, যাদের ভোটের ঠিক আগে মোতায়েন করা হবে এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
পর্যবেক্ষক মিশনে প্রায় ২০০ জন অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা এর আগে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনের ৫৬ জন সদস্যের রোববার ঢাকায় পৌঁছার তথ্য দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
ইভার্স ইইয়াব্স বলেন, মিশনটি তাদের কার্যক্রম চলাকালে নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনি প্রচার এবং নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।
এছাড়াও নারী, তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য জনগোষ্ঠীসহ সকলের রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে।
ভোটারদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন-ইওএমের পৃথক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে, ইইউ ইওএম নির্বাচনগুলো জাতীয় আইন অনুযায়ী কতটা পরিচালিত হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচন মানদণ্ড গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা মূল্যায়ন করবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান বলেন, নির্বাচনের দুই দিন পর পর্যবেক্ষক মিশন একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবে। প্রায় দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অতীতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে সব রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের যে কথা ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতরা বলতেন, সে প্রসঙ্গে টেনে করা প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং রূপান্তরকালীন সময়ে বিচারের নিশ্চিতের কথা বলেন তিনি।
ওই প্রশ্নে ইভার্স ইইয়াব্স বলেন, অবশ্য ওই প্রেক্ষাপট থেকে অংশগ্রহণের বিষয়ে… আমরা জানি দলের নিবন্ধন একটা ইস্যু এবং জাতীয় সমঝোতা এবং রূপান্তরকালীন সময়ে বিচারের বিষয়টি এখানে ঐতিহাসিকভাবে জটিল বিষয় বলেও আমরা জানি।
তিনি বলেন, আমরা এসব ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করছি না। তবে নির্বাচন, ভোটার উপস্থিতির মতো বিষয়ে এসবের কী প্রভাব, সেদিকে আমরা নজর রাখব। সুতরাং নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলার জন্য আমরা এখানে আসিনি। অবশ্য, আমরা সেটা জানি এবং সেটাকেও বিবেচনায় নিব।