গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন কমিশন গঠন, সাংগঠনিক অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ

লন্ডন প্রতিনিধি :

গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও চলমান বিরোধ নিরসন, গঠনতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২ আগস্ট (রোববার) লন্ডনের চিলড্রেন এডুকেশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জহির হুসাইন গৌছ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান ও মো. শামিম আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম।

সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর স্বাগত বক্তব্যে মামুনুর রাশিদ খাঁন ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধ, সাংগঠনিক অচলাবস্থা, ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকার কারণে কার্যক্রমে সৃষ্ট স্থবিরতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিরা দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাস্টের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গঠনতান্ত্রিক ধারায় কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ওপর সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা শেষে ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে ট্রাস্টি আক্তার হুসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আব্দুল আজিজ ফারুক ও ট্রাস্টি রিয়াজ উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসরণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের সর্বশেষ সাধারণ সভায় গৃহীত সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্তগুলো, যার মধ্যে প্যানেল ভোট বা স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের সুযোগ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলো সংবিধানে সংযোজনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিপুলসংখ্যক সাধারণ ট্রাস্টির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ছিফত আলী আহাদ, মো. ফজলুল হক, আব্দুল কাইয়ুম হান্নান, মো. মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মো. দিলওয়ার হোসেন, সায়াদ আহমদ সাদ, এমদাদ হুসেন টিপু, মাশুক আহমদ, সেলিম আহমেদ খান, দেওয়ান নজরুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস জুনেদ, সেলিম উদ্দিন চাকলাদার, মাহমুদুর রহমান শানুর, সিব্বির আহমদ, আব্দুস সামাদ, বদরুল আলম বাবুল, আব্দুল কাদির, আমিনুল হক জিল্লু, মো. ইকবাল হুসেন, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মো. ফারুক মিয়া, আলম খান, মাসুদ আহমদ জুয়েল, মো. লাভলু, মুহিবুর রহমান, আনওয়ার হুসাইন, তালাত ছিদ্দিক, মিসবাহ মাসুম, জুবায়ের সিদ্দিকী, সোহেল আহমেদ স্বপন, আব্দুল কুদ্দুস লাভলু, ইকবাল আহমেদ ও দেওয়ান আব্দুল বাসিতসহ অন্যান্য ট্রাস্টিবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সকল ট্রাস্টির সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাস্টের কার্যক্রম গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।

সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

সভা শেষে ট্রাস্টের ঐক্য, সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh