সব
নিজস্ব প্রতিবেদক,
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৬ সালের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগ ও লন্ডনভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গীতবীণা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শান্তিনিকেতনের ভাষা-বিদ্যাভবনের আইসিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আয়োজনে ছিল দুটি পর্ব। প্রথম পর্বে রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণ ও তাঁর বিশ্ববোধ নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে গীতবীণার পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীতের গীতিআলেখ্য অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বভারতীর উচ্চতর পর্যায়ের এক শিক্ষার্থীর কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘কবে আমি বাহির হলেম’ পরিবেশিত হয়। পরে গীতবীণার সদস্য এবং বাংলা বিভাগের প্রধান ও অনুষদ প্রধানের অংশগ্রহণে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় স্বাগত বক্তব্য দেন। রবীন্দ্রনাথের বিদেশ ভ্রমণের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে তাঁর বিশ্ববোধ নিয়ে তথ্যবহুল ও প্রাণবন্ত আলোচনা করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অমৃত সেন ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রীলা বসু। এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন পায়েল মুখার্জি।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের সাংস্কৃতিক সংগঠন গীতবীণার গীতিআলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেন সঞ্চালক পায়েল মুখার্জি।
‘সকালবেলার আলোয় বাজে বিদায় ব্যথার ভৈরবী’ গান দিয়ে শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। এরপর ধারাবাহিকভাবে ইউরোপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ১২টি গান পরিবেশন করা হয়। ‘পথ এখনও শেষ হলো না’ গানটির মাধ্যমে গীতিআলেখ্যের সমাপ্তি ঘটে।
গীতিআলেখ্যের পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও ভাববর্ণনা করেন রবীন্দ্র গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পীতম সেনগুপ্ত। পরিকল্পনা, গান নির্বাচন, সংগীত নির্দেশনা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন ড. শ্যামল চৌধুরী। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা ও স্বদেশ বিদেশ অনলাইন নিউজের সম্পাদক বাতিরুল হক সরদার।
সমবেত ও দ্বৈত গানে অংশ নেন গীতবীণার শিল্পী রুমি হক, মিতালী বনোয়ারী, সুনিতা চৌধুরী, মোস্তফা কামাল মিলন ও ড. শ্যামল চৌধুরী।
বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন এসরাজে সৌগত দাস, কী-বোর্ডে সব্যসাচী দত্ত, তবলা ও মৃদঙ্গে সন্দীপ মণ্ডল এবং মন্দিরায় প্রীতম নন্দী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা মনোযোগ দিয়ে গীতবীণার পরিবেশনা উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিল্পীদের সাবলীল পরিবেশনা, শুদ্ধ উচ্চারণ, সুর ও ভাবের সমন্বয় এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার প্রশংসা করেন।
সংগীত পরিবেশনা শেষে ড. শ্যামল চৌধুরী দর্শক-শ্রোতাদের দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাদ্যযন্ত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেন। পরে গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অমৃত সেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রীলা বসু, রবীন্দ্র গবেষক পীতম সেনগুপ্ত ও অনুষদ প্রধান মৃণাল মণ্ডলকে গীতবীণার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের মতে, বিশ্বভারতী ও গীতবীণার এই যৌথ উদ্যোগ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
সবশেষে শান্তিনিকেতনের আশ্রম সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ স্মরণে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘অনন্য ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’।