ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ


নয়া দিল্লি শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য হওয়ার খবর দিয়েছে এনডিটিভি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ঘোষণায় কোনো দেশের নাম না নিয়ে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছার তথ্য দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়া দিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করা হবে।

এদিন স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় সম্মেলন শুরু হচ্ছে। চলবে রোববার পর্যন্ত।
ভারতের সভাপতিত্বে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সংঘাত অবসানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগোনোর পথ’-ব্রিকসের ঘোষণায় এ বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ব্রিকসের সব সদস্য দেশকে একটি যৌথ ঘোষণায় একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের ‘শেরপাদের’ বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতপার্থক্যই ব্রিকসের যৌথ ঘোষণা আটকে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল।

চলতি বছরের মে মাসে নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও যুদ্ধ নিয়ে ইরান ও ইউএইর মতবিরোধের কারণে যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই দিনের ওই বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ঘোচাতে পারেনি ভারত। তবে এবার সদস্য দেশগুলোকে রাজি করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শিগগিরই জড়ো হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্য নেতারা।

শনিবার সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর।

সম্মেলনের ফাঁকে এদিন সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন মোদী।

এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন মোদী। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পায়।

পশ্চিম এশিয়া সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকেই’ সামনে এগোনোর পথ হিসেবে জোর দিয়ে আসছে ভারত।

শাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহ নিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বৈঠকের পর মোদী বলেন, পেজেশকিয়ানের ভারত সফর ‘আরও বিশেষ’, কারণ এটি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh