গ্রামীণ কল্যাণ: কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত করেনি চেম্বার আদালত

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশে স্থগিতাদেশ দেয়নি চেম্বার আদালত। তবে হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত এনবিআর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল চেম্বার আদালতকে জানিয়েছেন।

হাই কোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের গড়ে তোলা ‘গ্রামীণ কল্যাণ’। এ নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত শুনানি দেয়।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন ও খাজা তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানি শেষে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এনবিআরের দাবি করা অতিরিক্ত কর অবৈধ ঘোষণার জন্য গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দুটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন দুটি নামঞ্জুর হলেও হাই কোর্ট সেদিন আদেশটি মৌখিকভাবে ঘোষণা করেছে, পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও বের হয়নি।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় ছাড়া যেহেতু আমরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করতে পারছি না, তাই আপিল করার আগ পর্যন্ত এই মৌখিক আদেশের সুযোগ নিয়ে যেন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা না হয়, সেজন্য আমরা চেম্বার জজের কাছে একটি স্থগিতাদেশ (স্টে) চেয়েছিলাম।

এই আইনজীবী বলেন, আদালত বলেছেন, যেহেতু হাই কোর্ট এখনও কোনো জাজমেন্ট (পূর্ণাঙ্গ রায়) দেয়নি এবং আমরা পাইনি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। জাজমেন্ট এলে সেটি পড়ে দেখে তারপর আমরা ইন্টারফেয়ারেন্স করব’।

অ্যাটর্নি জেনারেলের আশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে মামুন বলেন, সেখানে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেছেন যে, ‘না, আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না’। এরপরও ব্যক্তিগতভাবে আমি স্থগিতাদেশ চাইলে আদালত বলেন,আদালতের মৌখিক আদেশও একটি আদেশ।

চেম্বার জজ যেহেতু হস্তক্ষেপ করেনি, তাই পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে আপিল করা পর্যন্ত কর আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে মত দেন এ আইনজীবী।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, হাই কোর্ট রিট খারিজ করে দেওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাবদ দাবি করা বিপুল অঙ্কের ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ পরিবারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের সাবেক চেয়ারম্যান।

এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে তার পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন সংবাদ প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়। তবে গত ১৪ জুলাই কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh