অভিবাসন ইস্যুতে মামদানির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ট্রাম্পের

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার ম্যানহাটনে প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের একটি বড় আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বৈঠক শেষে মামদানির প্রশংসা করেন ট্রাম্প।

গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তাকে ‘আমার ছোট কমিউনিস্ট’ এবং ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন তিনি। তবে মেয়র নির্বাচনে মামদানি জয়ী হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের চিত্র বদলেছে।

বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আপনি একজন দারুণ মেয়র হবেন। আমি বলতে পারব, আপনি দারুণ মেয়র হতে যাচ্ছেন। আর আপনি ভালোভাবেই শুরু করেছেন।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে নিজ শহর নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর মেয়র নির্বাচনে মামদানি জয়ী হওয়ার পর এ নিয়ে দুজনের তৃতীয় প্রকাশ্য সাক্ষাৎ হলো।

বৈঠকে অভিবাসন নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মামদানি। তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে তার ‘খুব দৃঢ় মতামত’ রয়েছে।

গণহারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিতাড়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজারো অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান বা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়েই তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান মামদানি।

নিউইয়র্কে ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মামদানি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে এ প্রকল্প নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ২১ বিলিয়ন ডলার কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন প্রয়োজন হবে।

মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে ‘অনেক মতপার্থক্য’ রয়েছে। তবে নিউ ইয়র্কের মানুষের জন্য স্বস্তি আনতে পারেন, এমন সবার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

মামদানি বলেন, ‘আমরা দুজনই খুব ভিন্ন পদ্ধতি ও ভিন্ন বিশ্বাসের কথা বলেছি। আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং সত্যি বলতে, শহরের মানুষের জন্য স্বস্তি দিতে পারেন—এমন সবার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব।’

এদিকে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের সময় তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো তার কর্মকাণ্ডের খবর প্রায় বর্জন করে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া সংবাদমাধ্যমগুলো হলো সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। মামদানি বলেন, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব সংবাদকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন।

নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, ‘মতামত বা সমালোচনা যা-ই হোক, সবাইকে যুক্ত করা উচিত।’

ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার সমালোচনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা বলেছিল আমাকে বর্জন করবে। কিন্তু তারা কখনোই আমাকে বর্জন করে না। তাই এ নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না।’

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh