জেলা হাসপাতালে ১০টি ও মেডিকেলে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন বসানো হচ্ছে

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি করে এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। কিডনি রোগীদের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসাসংকট নিরসনে সরকারের এই পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবচেয়ে বড় বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। শুধু ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনই নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়লে রোগীদের আর সাধারণ চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না। এতে রাজধানীর বড় ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যে প্রচণ্ড চাপ থাকে, তা অনেকাংশে কমে আসবে এবং চিকিৎসকরাও আরও মনোযোগের সঙ্গে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।

বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাতের প্রকৃত উন্নয়নে বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য খাতের নামে যেসব যন্ত্রপাতি বা মেশিন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বর্তমানে ব্যবহার অযোগ্য বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বদলে এসব অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে শুধুই হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে উপস্থিত দেশের প্রথিতযশা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাও গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও জনসচেতনতামূলক পরামর্শ তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বেশির ভাগ সময় মানুষ হঠাৎ করে ওঠা বুকের ব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসের ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন এবং নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। এই প্রাথমিক অবহেলা অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। তাই যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।

একই সঙ্গে হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও অকালমৃত্যু কমাতে দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ বর্জন করা, খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া পরিহার করা এবং ফাস্টফুড বা প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলার কথা বিশেষভাবে বলা হয়। সুস্থ হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলারও তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh