সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কার্সন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

তাঁর সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান আর নতুন অর্থ খোঁজার চেষ্টা। শব্দের ব্যুৎপত্তিকেই তিনি নিজের সব কাজের শুরুর জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অ্যান কার্সনের পুরো নাম অ্যান প্যাট্রিসিয়া কার্সন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২১ জুন ১৯৫০ সালে, কানাডার টরন্টো, অন্টারিওতে। তাঁর পুরো কর্মজীবনেই কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ একসঙ্গে করেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে অ্যান কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণ, দর্শন ও আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মেলবন্ধন দেখা যায়। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ—বিভিন্ন সাহিত্যরীতির সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজস্ব লেখার ধরন তৈরি করেছেন। ধ্রুপদি সাহিত্যের উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরির জন্য তিনি পরিচিত।

অ্যান কার্সনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড (২০০১) ও নক্স (২০১০)। বইয়ে প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। অটোগ্রাফি অব রেড গ্রিক পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে লেখা একটি উপন্যাস-কবিতা। আর নক্স বইটি তাঁর প্রয়াত ভাইয়ের স্মৃতিকে ঘিরে তৈরি ব্যতিক্রমী শোকগাঁথা।

সাহিত্যে অবদানের জন্য অ্যান কার্সন ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ ও টি. এস. এলিয়ট প্রাইজসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে তাঁর স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh