বায়তুল মোকাররমে খতিবের বক্তব্য ঘিরে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য ঘিরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের মধ্যে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খতিবকে অপসারণের উদ্যোগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খতিবকে অপসারণের বিষয়ে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবারের বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এমন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুসল্লিদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি এই মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নামাজ পড়াবেন এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়; এটি সব মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। দলটি বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি।

সম্প্রতি বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে ব্যবহৃত ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানানোর সময় তাঁকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের বক্তব্যের পর তাঁর সমালোচনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শুক্রবারের বিক্ষোভকে সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খতিবকে অপসারণের উদ্যোগের পেছনে জামায়াতের ভূমিকা রয়েছে-এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বায়তুল মোকাররম দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মসজিদের খতিবকে ঘিরে এমন বিতর্ক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে তাৎপর্য তৈরি করেছে। একদিকে খতিবের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁর দায়িত্বে বহাল থাকার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে জামায়াতের আদর্শ ও ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহার নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় ধর্মীয় মতপার্থক্য, রাজনৈতিক জোট এবং জাতীয় মসজিদের খতিবের ভূমিকা-তিনটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ঘটনার মূল্যায়ন করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh