সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

শীতকালীন সবজির মধ্যে মুলা ও ফুলকপির বাম্পার ফলন হলেও এর দাম পাচ্ছেন না সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার কৃষকরা। এতে হতাশায় ভুগছেন তরা। বাজারে মুলার দাম কমে এখন প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়, আর প্রতি পাতা কপি ও ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকায়।
কৃষকরা বলছেন, এই দামে মুলা, পাতা কপি ও ফুলকপি বিক্রি করে উৎপাদনের খরচই উঠছে না। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জে কাজিপুর উপজেলায় এবার প্রচুর শীতের শাকসবজি চাষ হয়েছে। তবে বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে মুলা, পাতা কপি ও ফুলকপি। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মুলা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা এবং ফুলকপি বড় প্রতি পিস ৩ থেকে৪ টাকা।
সোনামুখী ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের হাবীব বলেন, এবার আমি ৩ বিঘা জমিতে পাতাকপি, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছি। সেখানে জমি তৈরিসহ বীজ, সার, কীটনাশকে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শুরুর দিকে আশানুরূপ দাম পেলেও বর্তমানে বাজারে কপির দাম না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য মুলা চাষিদেরও। তারা জানান, শুরুর দিকে আড়াই হাজার টাকা মণ থাকলেও এখন ৪০ টাকারও কম দামে মুলা বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। ফলে মুলা আর ফুলকপি নিয়ে হাটে এসে ক্রেতার অভাবে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের লাভতো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।
মাইজবাড়ী ইউনিয়নের চর মাইজবাড়ী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ২০ শতাংশ জমিতে মুলা ও ফুলকপি লাগিয়েছি। প্রথম দিকে কিছুটা ভালো দাম পেয়েছি, এখন মুলা কেজি ২ এবং কপি ২ টাকা পিস দামও উঠছে না। এমন অবস্থায় আমাদের লাভ হবে না।
সিরাজগঞ্জের পিপুলবারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, সবজি কিনে সিরাজগঞ্জে আড়তে নিতে গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিমণ মুলা ও ফুলকপিতে শ্রমিক খরচসহ পৌঁছাতে খরচ পড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, এমন অবস্থায় আমরাও খুব বেশি লাভ করতে পারছি না।
কাজিপুর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, চলতি রবি মৌসুমে ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার অন্য সবজির সঙ্গে চাষিরা একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মুলা ও ফুলকপি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানিও বেশি। সবজি পচনশীল পণ্য। সেইসঙ্গে সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় ক্ষেত থেকে উত্তোলন করেই কৃষকদের বিক্রি করতে হয়।