সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

কিশোরগঞ্জের জালালপুরের সুস্বাদু চা পান করতে প্রতিদিন ছুটে আসেন দুর দুরান্তের মানুষ। ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এখানকার চায়ের দোকান। এমন কি সুস্বাদু চা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পাঠানো হয়। পাকিস্তান আমলে জালাল নামে এক চায়ের দোকানি এখানে চা বিক্রি করতেন, তার নামেই এখন আমিরগঞ্জ হয়ে গেছে জালালপুর বাজার।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের এই বাজার বিখ্যাত চায়ের জন্য। এই বাজারে রয়েছে ২০টি চায়ের দোকান। ভিন্ন রকম স্বাদের জন্য জালালপুর বাজারের চা পান করতে প্রতিদিন এখানে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
চা বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। একের পর এক চা তৈরি করে ক্রেতাদের কাছে পরিবেশন করছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চা খেতে আসা চাপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন। কেউ জায়গা পেলে স্টলে বসছেন। আবার কেউ স্টলের পেছনে মোড়াই বসছেন। আবার কেউ কেউ রেললাইনে বসে আছেন চায়ের অপেক্ষায়। দলবেঁধে তরুণ-তরুণীরা ভিড় করেন জালালপুর বাজারের চা খেতে। এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছেন অথচ জালালপুর বাজারের বিখ্যাত মালাই চা খাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই চায়ের অতুলনীয় স্বাদের মূল রহস্য হলো, এই চায়ে দুধের পাশাপাশি দুধের স্বর দেওয়া হয়। যার ফলে চায়ের স্বাদ বেড়ে যায়। দুধ আর মালায় দিয়ে তৈরি হচ্ছে চা, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে এই চায়ে চুমুক দিতে।
চা খেতে আসা জামাল উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, জালালপুর বাজারের মালাই চা খেতে ভালো লাগে। তাই বন্ধুদের নিয়ে আসলাম। কিন্তু প্রতি কাপ চায়ের দাম ৪০ টাকা। যা একটু বেশিই মনে হলো।
খুলনা থেকে আসা রাফি বলেন, খুলনা থেকে জালালপুর বাজারের চায়ে অনেক খ্যাতি শুনেছি, তাই কিশোরগঞ্জ বেরাতে এসে প্রথমেই জালালপুর বাজারে ছুটে এসেছি। এখানে চা পান করে সত্যিই মুগ্ধ। এত মজার চা কীভাবে বানায়।
৪০ টাকা দামে এক কাপ চা তৈরি করা হয় দুধ আর মালায় দিয়ে। যে একবার এই চায়ে চুমুক দেয়ে সেই হয়ে যায় ভক্ত।
গ্রাহকদের চাহিদার কারণে দোকানগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। দোকানিরা জানান, প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কেজি দুধের চা বানানো হয়। রং চা ৫ টাকা, দুধ চা ১৫ টাকা আর মালাই চা ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
চা বিক্রেতা মামুন জানান, আমরা প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কেজি দুধ চুলায় জাল দিয়ে শুকিয়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজিতে রূপান্তর করি। ভালো চা-পাতি আর গাভির বেজালমুক্ত দুধ দিয়ে চা তৈরি করি। তাই স্বাদ অতুলনীয়।
এলাকাবাসী জানান, অনেক আগে জালাল নামে একজন এই বাজারে চা বিক্রি শুরু করেন। স্বাদে দারুণ হওয়া অল্পদিনে ছড়িয়ে পড়ে তার চায়ের খ্যাতি। এখন বাজারের নামই হয়ে গেছে জালালপুর বাজার। এই চা তৈরি হয় খাঁটি গরুর দুধ দিয়ে, তাইতো অন্য চায়ের থেকে এ চায়ের কদর বেশি।