সব
স্বদেশ বিদেশে রিপোর্ট,
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন বিরোধী নীতির আওতায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১ লাখ ১৩ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করা হয়েছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্টেটে অভিযান চালিয়ে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের সময় এসব অভিবাসীকে আটক করে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকেই অভিবাসন বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারির ফলে এ বছর অবৈধ প্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে ২৯,১০১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮,৩৪৭ জন এবং মার্চ মাসে ৭,০০০ জন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটক হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার, যা এ বছর প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে অবস্থানরত যেসব অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই সহিংস অপরাধ, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত। কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে গত এক দশকের মধ্যে এবারই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের হার সবচেয়ে কম।
সাম্প্রতিক অভিযানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধকালীন ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’ আইন প্রয়োগ করে সন্ত্রাসী সংগঠন ট্রেন ডি আরাগুয়া এবং এমএস-১৩ এর কয়েক হাজার সদস্যকে ডিপোর্ট করেছেন। তাদের সামরিক বাহিনীর ফ্লাইটে হাত-পায়ে হাতকড়া পরিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ডিপোর্ট হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই মেক্সিকো, এল সালভাদর, ভেনিজুয়েলা এবং ভারতের নাগরিক। কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ অভিবাসন কঠোরভাবে দমন করা হবে।