সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
যুক্তরাজ্যে মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১১ জন বিশিষ্ট অমুসলিম ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ)। ৯ জুলাই, বুধবার পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সি হলে আয়োজিত ‘দ্বিতীয় মুসলিম কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক অধিকার রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়িয়ে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাদেরকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এমসিএ-এর এই উদ্যোগকে যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি উন্নয়নের এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এমসিএ’র সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “এই উদ্যোগ প্রেরণা পেয়েছে মহানবী (সাঃ) এর ঐতিহ্য থেকে। আমরা চাই, সমাজে যারা সম্প্রীতির জন্য কাজ করেন, তারা যেন আমাদের সমর্থন পান।”
প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ এমপি, মেয়র, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এবছর মোট ৬টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়: শিক্ষা ও উন্নয়ন, কমিউনিটি কোহেশন, এনগেজমেন্ট, সমাজকল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সমতা এবং আজীবন সম্মাননা। প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী পেয়েছেন ২০০০ পাউন্ড এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীরা পেয়েছেন ১০০০ পাউন্ডের চেক ও সম্মাননা ট্রফি। তারা এই অর্থ তাদের পছন্দের চ্যারিটিকে দান করবেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন:
শিক্ষা ও উন্নয়নে: অধ্যাপক ফ্রান্সিস থমাস ডেভিস (বিজয়ী), অধ্যাপক পল রেনল্ডস (দ্বিতীয় স্থান)
কমিউনিটি কোহেশন: ড. ক্রিস অ্যালেন (বিজয়ী), অলিভার ম্যাকটার্নান (দ্বিতীয়)
কমিউনিটি এনগেজমেন্ট: মার্ক এরিরা-গায়ার (বিজয়ী), কার্ল অ্যারিন্ডেল (দ্বিতীয়)
কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার: অধ্যাপক ক্যাথি ম্যাসন (বিজয়ী), ক্যাথলিন জ্যাকসন (দ্বিতীয়)
ন্যায়বিচার ও সমতা: ক্রিস নিনহাম (বিজয়ী), ক্রিস ডয়েল (দ্বিতীয়)
সমাপনী বক্তব্যে এমসিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল মতিন চৌধুরী বলেন, “এই পুরস্কার কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি প্রতীক।” অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর দেলওয়ার হোসাইন খান।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা একমত পোষণ করেন যে, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে নতুন আশার আলো ছড়াবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্ত ভিত গঠনে সহায়ক হবে।
