সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

গ্রেপ্তার হওয়ার আড়াই মাস পর ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার তার জামিন মঞ্জুর করে।
তবে দুদকের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখনই মুক্তি মিলছে না এ সাংবাদিকের।
আদালতে আনিস আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তামান্না ফেরদৌস।
তিনি বলেন, “উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রুল শুনানি শেষে আদালত রুল অ্যাবসোলিউট করে জামিন মঞ্জুর করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় রুল জারি হয়েছিল, আজ সেই রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।”
তবে আনিস আলমগীর এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “তার বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। ওই মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) দেখানো হয়েছে। দুদকের মামলাটিও আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিচ্ছি।”
গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।
অপর আসামিরা হলেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।
এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।
সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন।
এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর— আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা ছিল ওই সময়।
তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দাবি, ‘স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই’ জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে তার স্বামীকে।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দাবি করেছিলেন, স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহলে আনিস আলমগীরকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো? তাকে তো স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আনিস আলমগীর কি টেরোরিস্ট, না উনি কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন? এমন কী হয়ে গেছে- তাকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
শাহনাজ চৌধুরী গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, ওই মামলায় উনি তো একা আসামি একা নন। আরও কয়েকজন আসামি আছে। তারা তো ঘুরছে-ফিরছে।
“আর আনিস আলমগীরকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
আর দুদকের মামলা নিয়ে তার ভাষ্য, “সরকারের কাছ থেকে সাংবাদিক কোটায় একটা জায়গা পেয়েছিলেন। ওটা বিক্রি করে কিছু টাকা পেয়েছেন। এ কারণে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এটাও মিথ্যা মামলা।”