সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
গণতন্ত্রকে সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্টের আয়োজনে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক বা ‘ভাইটাল ডাইমেনশন’ হলো ভোটে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এখনো অনেক কম।
কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, শুধু নারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না; বরং তাদের ক্ষমতায়নের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। তিনি সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন যার মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে, প্রার্থী হিসেবে, রাজনৈতিক দলে অবস্থান তৈরিতে এবং বেসরকারি ও উন্নয়নমূলক সংস্থায় অংশগ্রহণ।
আইনের পাশাপাশি মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে নারীদের সমতা আনা সম্ভব নয়, এর জন্য দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের কমিটিতে ভোটার অনুপাতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাঠপর্যায়ে বাস্তবসম্মত কাজের তাগিদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, পাঁচ তারকা হোটেলে বসে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করলেই নারীর সমতা নিশ্চিত হবে না। প্রকৃত সমতা আনতে হলে একেবারে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। নারী ভোটারের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হলে কেবল শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের কাছে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।