সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানিয়েছেন, নিহত সাংবাদিকের শরীরে মোট ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।
এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তেলনজিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া মুঠোফোন আনতে গেলে দুজন অজ্ঞাতনামা যুবক আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে সরব ছিলেন। সাংবাদিকতা করার কারণেই তাঁর অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর বড় ভাই। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বরও তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল, যে মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লুৎফুজ্জামানের মরদেহ দাফন করা হয়। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়া তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা স্বামী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।