মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে রায়ে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান সব আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) নুরতাজ আলম বাহার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন- মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলা।

মামলার বিবরণে থেকে পিপি আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, সিংগাইরে হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। স্বামী ও সন্তান না থাকায় তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।

সেখানে গেলে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তিনজনই মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন বলে জানান পিপি নুরতাজ আলম বাহার।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh