সুনামগঞ্জে নবজাতকসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার

সিলেট অফিস,

  • প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ৬:২৭ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জে গত ৮ ঘন্টায় পৃথক স্থান থেকে এক নবজাতকসহ ৪জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে ২জনের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মৃতরা হলো- জেলার দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের আগুর মিয়ার ছেলে রুম্মান হোসেন (১৮), একই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের দীপক দাসের ছেলে দীপওয়ান দাস (১বছর), শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাগলা ইউনিয়নের অজ্ঞাত নবজাতক শিশু (১ মাস) ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখাই গ্রামের নাজির হোসেনের স্ত্রী মমিনা খাতুন (২৫)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার সংলগ্ন টিএনটি অফিসের পাশে অবস্থিত লাউয়া খালের পানিতে ১মাস বয়সী এক নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু তার কোন পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাই স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে রাতেই উপজেলার রায়পুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অপরদিকে বিকেলে দোয়ারাবাজার উপজেলার বৈঠাখাই গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী নাজির হোসেনের সাথে অভিমান করে দুই সন্তানের জননী মমিনা খাতুন বিষপান করে। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ওই গৃহবধুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

এদিকে সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলার দাউদপুর গ্রামের কিশোর রুম্মান মিয়া তার ব্যবসার কাজ শেষ করে নিজ বসতবাড়িতে এসে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিশোর রুম্মান মিয়ার রহস্য জনক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ওই কিশোর বিষপান করেছে। কিন্তু সেই বিষ সে নিজে পান করেছে কিনা তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আসল ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে বিকেলে একই উপজেলার চান্দপুর গ্রামে খেলা করতে গিয়ে পরিবারের অগোচরে বসতবাড়ি সংলগ্ন গর্তের পানিতে ডুবে শিশু দীপওয়ান দাস নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর সন্ধ্যায় গর্তের পানি থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মোঃ খালেদ চৌধুরী, দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর ও দিরাই থানার ওসি মোক্তাদির হোসেন সাংবাদিকদের পৃথক ৪টি লাশ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh