নাগেশ্বরীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৫, ৪ জন একই পরিবারের

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পাথরবাহী ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজনে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। তারা চিকিৎসা করাতে রংপুর নগরীতে গিয়েছিলেন।

চিকিৎসা শেষে মাইক্রোবাসে করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে নাগেশ্বরী পৌরসভার কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের বাঁশের তল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটি বঙ্গসোনার হাট স্থলবন্দর থেকে পাথর বোঝাই করে কুড়িগ্রাম যাচ্ছিল।

এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। আহত হন অন্তত আরও ১২ জন। আহতদের নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান।

নিহতরা হলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের আসাদ মোড় এলাকার শামীম হোসেন (৩২), তার মেয়ে মোছা. ছাদিয়া (৮), একই পরিবারের বাবু মিয়ার স্ত্রী তামান্না (২৮), মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. নুরনবী (২৮) এবং একই গ্রামের সাইফুর রহমানের ছেলে মো. লিমন (৩০)।

তাদের মধ্যে লিমন পেশায় মাইক্রোবাস চালক বলে জানা গেছে।

বুধবার সকালে গ্রামের বাড়িতে লাশ এসে পৌঁছালে কান্নার রোল পড়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হতাহতরা সবাই মাইক্রোবাস ভাড়া করে চিকিৎসা করাতে মঙ্গলবার সকালে রংপুরে গিয়েছিল। চিকিৎসা নিয়ে রাতে ফেরার পথে মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তবে বিষয়টি নাগেশ্বরী থানার অধীন হওয়ায় আইনগত বিষয়টি তারাই দেখবেন।”

নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, ওই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও রাতের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh