ঐকমত্য কমিশনেই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর নিষ্পত্তি চায় এনসিপি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের বৈঠকে কোনো সুরাহা না হলে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করেছে।’

আখতার বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলার ব্যাপারে এর আগে একটা জায়গায় একমত হয়েছিল। সে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু পরে হাসিনা যখন ক্ষমতায় এল, জুডিশিয়ারিকে ব্যবহার করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভিশন সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হল।’

তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একমত। কিন্তু সে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, সে জায়গাটায় মোটা দাগে একটা একমতের জায়গা হলো, ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যেভাবে বাধ্যতামূলকভাবে সাবেক বিচারপতিদের সরকারপ্রধান করার বিধান করা হয়েছিল, সেই জায়গাটা আমরা আর রাখার পক্ষপাতী নই।’

ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি।

যদি ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ‘র‍্যাঙ্কড চয়েজ ভোটিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পাঁচজনের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতি যুক্ত হয়ে মোট সাতজন ভোট দেবেন। বিচারপতিরা প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবেন না, কেবল ভোট দেবেন।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাব তুলে ধরে আখতার বলেন, ‘তারা বলেছে, বাছাই কমিটি একমত না হলে বিষয়টি সংসদে পাঠানো যেতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি এ ফোরামেই সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তা না হলে বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার দিকে যাবে।’

জুলাই সনদ সম্পর্কে এনসিপি সদস্য সচিব বলেন, ‘এটি এখনও খসড়া পর্যায়ে আছে এবং দলীয়ভাবে আমরা তা পর্যালোচনা করছি। এ খসড়ায় আমরা মৌলিক সংস্কারের প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত দেখতে চাই। যদি তা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব, এতে সই করব কি না।’

তিনি জানান, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে তারা ‘লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার’ (এলএফও) করার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রস্তাব দিয়েছেন যেন যেসব সংস্কার দলগুলো সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করছে, তা ভবিষ্যতে কোনো সরকার উপেক্ষা করতে না পারে— সে নিশ্চয়তা রাখা হয়।

আখতার বলেন, ‘যদি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখন করা যায়, তাহলে সেগুলো সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। আর এই সংস্কারগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন যেন ভবিষ্যতে প্রণীত না হয়, সে নিশ্চয়তার বিধান রাখার প্রস্তাবও দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব, এই সনদ বাস্তবায়নের পথে যাওয়া হোক। দীর্ঘমেয়াদি বিতর্ক বা জটিলতায় আমরা যেতে চাই না।’

আখতার হোসেন জানান, ‘দলীয় ফোরামে আলোচনা করে খুব শিগগিরই জুলাই সনদসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কমিশনে জমা দেওয়া হবে এবং পরে তা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হবে।’

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh